ব্রাজিলে জাতীয় যাদুঘরে অগ্নিকান্ড, পুড়ে ছাই আমেরিকার প্রাকৃতিক ইতিহাস সমন্নিত যাদুঘর
ব্রাজিলে জাতীয় যাদুঘরে ঐতিহাসিক
ভয়াবহ একটি অগ্নিকান্ড ঘটে গেল। আমেরিকার প্রাকৃতিক ইতিহাস সমন্নিত ও পৃথিবীর
বৃহত্তম জাদুঘরগুলির মধ্য়ে অন্য়তম এই রিও ডি জেনেরিওর যাদুঘরটি।
বিপুল সংখ্য়ক অগ্নিনির্বাপক ও যাদুঘর কর্মীরা এই ভয়াবহ
অগ্নিকান্ডের ধ্বংসের ভেতরে তাদের উদ্ধারকার্য চালালেও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে গোটা
যাদুঘরটাই! কিভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা অবশ্য় এখন জানা যায়নি।
ব্রাজিলের প্রাচীন গ্রিক- রোমান শিল্প, মিশরের শিল্প এবং আদিম যুগের বহু
জীবাশ্মের নমুনা এই যাদুঘরটিতে মজুত ছিল। ১৮০৮ সালে নেপোলিয়ন পর্তুগাল আক্রমন করলে
পর্তুগালের রাজ পরিবার তাদের কোর্টকে এই রাজকীয় ভবনটিতে স্থানান্তর করে। ১৮১৮ সালে
এখানে যাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় থেকেই গবেষকেরা যাদুঘরটির উন্নয়নের লক্ষে
প্রচুর সামগ্রী সংগ্রহ করে তা জন সাধারণের সামনে তুলে ধরতে সদাই সচেষ্ট থেকেছেন।
ফলে সংগ্রহশালাটি দিনে দিনে পৃথিবীর অন্য়তম একটি যাদুঘর হিসেবে স্থান পায়।
ব্রাজিলের বৃহত্তম
উল্কাপিন্ড, ডাইনোসরের হাড় এবং আমেরিকার ১২ হাজার বছর বয়সী লুইসিয়া নামের একটি
কঙ্কাল যা আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীনতম আবিষ্কার। ১৫০০ খ্রীষ্টাব্দে পর্তুগীজদের
আগমনের সময়কাল থেকে ১৮৮৯ সালের প্রজাতন্ত্র ঘোষনার সময়কাল পর্যন্ত নানা মূল্য়বান
জিনিসে এই ভবনটি ভরে ছিল। এথোলোজি সংগ্রহের আদিবাসী সংস্কৃতির প্রাক কলম্বিয়ান
যুগের শিল্পকর্মগুলির সহচার্যে অই যাদুভবনটি মহিমাম্বিত হয়ে ছিল সভ্য়তার কাছে। আজ
তা ধ্বংসের ইতিহাসে কালিমা লিপ্ত।