বাংলার তন্ত্র সাধনার এক প্রাচীনতম শক্তিপীঠ
বাংলার ৫২ টি শক্তিপীঠের মধ্য়ে একটি অন্য়তম জাগ্রত শক্তিপীঠ, ক্ষীরগ্রাম। গ্রামটি বাংলার তন্ত্র সাধনার এক প্রাচীনতম পীঠ। কাটোয়া বর্ধমান রেলপথে কাটোয়া থেকে ১৭ কিলোমিটার এবং বর্ধমান থেকে ৩৬ কিলেমিটার দুরে কৈচর স্টেশন। বাস বা রিকশায় কৈচর থেকে চার কিলোমিটার পথ গেলে ক্ষীরগ্রাম। গ্রামের পশ্চিমে দেবী যোগাদ্য়ার মূল বেদী। মন্দিরের লাগোয়া ক্ষীর দিঘীর জলে সারাবছর দেবীর অধিষ্ঠান।
প্রতি বছর বৈশাখী সংক্রান্তির আগের দিন দেবীকে জল থেকে তুলে বেদীতে রাখা হয় এবং একটা গোটা দিন দেবীর পূজা হয় মহা সমারোহে। এরপর আবার দেবী মূর্তিকে জলে রেখে আসা হয়। আবার জৈষ্ঠ মাসের চার তারিখে একদিনের উৎসব হয়। এই দুটি দিন ছাড়া অন্য় সময়ে দেবীকে দর্শন করা যায় না। দেবীর পূজা উপলক্ষে ঐ সময়ে ক্ষীর গ্রামে বিরাট উৎসব আয়োজিত হয়। আষাঢ়ী নবমী, বিজয়াদশমী, ১৫ পৌষ এবং মাঘ মাসের মকর সপ্তমীতে দেবীকে জল থেকে তুলে পুজো করা হলেও তাঁকে দেখতে পান না সাধারণ মানুষজন।
এই উৎসবে বাংলার ও বাংলার বাইরে থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এখানে আসেন। উৎসবের সময়ে এতটাই ভিরে ভরা থাকে যে প্রায় তিল ধারনের স্থান মেলে না। তীর্থযাত্রীরা মূলত ক্ষীর দিঘীর চার পাশে তাবু খাটিয়েই থাকেন। বর্তমানে যোগাদ্য়া মন্দির কমিটির পরিচালনায় একটি যাত্রী আবাস নির্মান করা হয়েছে।
উৎসবকে ঘিরে অতিথি আপ্য়ায়ন গ্রামের অন্য়তম ঐতিহ্য়। কোনও অতিথিকে সেদিন ফেরানো হয় না। নানান ধরনের দেশীয় মন্ডামেঠাইয়ে ভরে থাকে মেলার আসর। যদি পেট ভরে মিষ্টি খাওয়া উপভোগ করতে চান তাহলে ক্ষীর গ্রাম অবশ্য়ই যাবেন। এখানের কমলা ভোগ ও দই খুবই বিখ্য়াত।
মা যোগাদ্য়া পাতালে রাক্ষস পূজিতা দেবী।মন্দিরের পূজায় মাছ রান্না করে দেবীকে দেওয়া হয়। ভক্তরাও সেই প্রসাদ পায়।
No comments:
Post a Comment